নওশাবা হৃদিতা
একবারের কথা, জাপানের এক ছোট শহরে ছিল একটি প্রিয় কাপ। প্রতিদিন কেউ চায়ের জন্য সেই কাপ ব্যবহার করত। একদিন দুঃখজনকভাবে কাপটি ভেঙে গেল। সবাই মনে করল, “এখন এটি আর ব্যবহার করা যাবে না।”

কিন্তু এক জাপানি শিল্পী ভাঙা কাপটিকে ফেলে দিল না। তিনি সাবধানে কাপের ভাঙা টুকরোগুলো একত্র করলেন এবং আঠা দিয়ে জোড়া লাগালেন। সবচেয়ে বিশেষ অংশ হলো, যেখানে কাপ ভেঙেছিল, সেখানে তিনি সোনার মতো চকচকে রঙ লাগালেন । কাপটি এখন আগের তুলনায় আরও সুন্দর এবং আলাদা দেখাচ্ছিল। ভাঙা দাগগুলো যেন সোনার নদীর মতো ঝলমল করছে, এই ব্যাপারটি সবাইকে অবাক করেছিল।

এই ঘটনার মাধ্যমে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই, ভাঙা মানেই খারাপ নয়। ভুল বা ব্যর্থতাও জীবনের অংশ। ঠিক যেমন কাপের ফাটলকে সোনা দিয়ে সাজানো হয়েছে, তেমন আমাদের জীবনেও কষ্ট, দুঃখ বা ভুলগুলোই আমাদের শক্তিশালী এবং আলাদা করে তোলে। জাপানি দর্শনে এক নাম আছে, ওয়াবি-সাবি, যার অর্থ হলো, “অপূর্ণতা এবং ক্ষণস্থায়ীত্বকেও সুন্দরভাবে গ্রহণ করা।”
একবার ভাবুন, আপনার প্রিয় কোনো জিনিস হঠাৎ ভেঙে গেল। প্রথমে হয়তো দুঃখ লাগবে, মন খারাপ হবে। কিন্তু ঠিক যেমন কিন্টসুগিতে ভাঙা pottery-এর ফাটলগুলোকে সোনা দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়, তেমনই আমরা আমাদের জীবনের “ভাঙা মুহূর্তগুলো” কে ধীরে ধীরে গ্রহণ করে সুন্দর কিছুতে পরিণত করতে পারি।
ভাবুন, কোনো প্রজেক্ট ঠিকঠাক হয়নি বা কোনো স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সেই মুহূর্তটাকে জীবনের pottery-এর ফাটল হিসেবে দেখুন। যত্ন নিন, সময় দিন এবং একটু “সোনার স্পর্শ” দিয়ে সেই ফাটলও হতে পারে শক্তি এবং সৌন্দর্যের উৎস।
কিন্টসুগি শুধু একটি শিল্পকলা নয়, এটি জীবনকে দেখার একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি। এটি আপনাকে শেখায় কৌতূহল এবং সমানুভূতি নিয়ে জীবনকে দেখতে, অপ্রত্যাশিত সৌন্দর্য খুঁজে পেতে এবং আপনার অসম্পূর্ণতাগুলোকে উদযাপন করতে। ভাবুন, আপনার জীবন একটি pottery-এর টুকরো। প্রতিটি চ্যালেঞ্জ, প্রতিটি ব্যর্থতা, প্রতিটি ভুল হলো একটি ফাটল। কিন্তু সেই ফাটলগুলো লুকানোর বদলে, আপনি সেগুলোকে সম্মান দেন। দেখবেন ফাটলটি ঝলমল করছে সময়ের সঙ্গে। এভাবেই আপনার জীবনের প্রতিটি দাগ বা ফাটল স্থিতিশীলতা, শক্তি এবং বিকাশের গল্প বলে।
কিন্টসুগি আপনাকে শেখায় যে আপনি নিজেকে এবং চারপাশের জগৎকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন। এটি মনে করিয়ে দেয়, ভাঙা হওয়া কোনো ভয় দেখার বা লুকানোর বিষয় নয় বরং এটি নতুন এবং সুন্দর কিছু তৈরি করার সুযোগ। তাই, যখন মনে হয় আপনার জীবন ভেঙে যাচ্ছে, কিন্টসুগির চেতনা মনে করুন। টুকরোগুলো একত্র করুন। সময় নিন। মনোযোগ দিয়ে আবার সব কিছু গুছিয়ে দিন। আপনার ফাটলগুলোকে ত্রুটি হিসেবে নয়, বরং শক্তি এবং গল্পের প্রতীক হিসেবে ঝলমল করতে দিন।
শেষ পর্যন্ত, গুরুত্বপূর্ণ হল নিখুঁত হওয়া নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল পুরো থাকা, সোনা দিয়ে ভরা ফাটলসহ পুরো থাকা। মনে রাখুন, আপনি যেমন, তেমনভাবেই সুন্দর। আপনার ভাঙা মুহূর্তগুলোই আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে এবং আপনার গল্পকে আরও রঙিন করে তোলে।
ব্লগটি মনের বন্ধু এক্সপার্ট দ্বারা রিভিউয়ের পরে প্রকাশিতএই ব্লগের একমাত্র উদ্দেশ্য মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে এতে কিছু প্রতীকি ঘটনা ব্যবহার করা হয়েছে।
এই ব্লগ বা এর কোনো অংশ পড়ে কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হলে তার জন্য লেখক ও ‘মনের বন্ধু’ দায়ী নয়। মনের ওপর চাপ অনুভব করলে বা মানসিকভাবে ট্রিগার্ড অনুভব করলে দ্রুত মনের বন্ধু বা যেকোনো মানসিক স্বাস্থ্যবিদের সাথে যোগাযোগ করুন।
মনের বন্ধুতে কাউন্সেলিং নিতে যোগাযোগ করুন: ০১৭৭৬৬৩২৩৪৪।
📍: ৮ম ও ৯ম তলা, ২/১৬, ব্লক-বি, লালমাটিয়া, ঢাকা
দুশ্চিন্তা তো কম-বেশি আমরা সবাই করি! তবে কোনো একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা বা উদ্বেগ স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তা মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উদ্বেগ যদি দীর্ঘমেয়াদী হয় এবং কারো দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘট
আলিয়া ভাট তার অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিজঅর্ডারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে জানান
সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সেটা ধরে রাখা—দুটোই কঠিন কাজ। প্রচুর সময়, প্রচেষ্টা এবং ভালোবাসা বিনিয়োগ করতে হয়। তবে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক যতই সুন্দর হোক না কেন, কিছু সমস্যা এবং বাধা আসবেই।
In the 21st century, almost everyone we know has a smartphone, and it’s impossible to go outside without seeing at least one person staring at their screen—whether they’re texting while waiting for th